
২০১০ সালে যাত্রা শুরুর পর আবাসিক ও বাণিজ্যিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও বাস্তবায়নে অভিজ্ঞতা, কারিগরি দক্ষতা ও ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি
ঢাকা: দেশের ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও বিল্ড খাতে গত দেড় দশকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান ও ডিজাইন ফার্মের আগমনের পাশাপাশি গ্রাহকদের মধ্যেও বেড়েছে নান্দনিকতা, কার্যকারিতা ও টেকনিক্যাল মানসম্পন্ন ইন্টেরিয়র সেবার চাহিদা। এই পরিবর্তনশীল বাজারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম নূরাণী ইন্টেরিয়র (Nurani Interior)।
২০১০ সালে যাত্রা শুরু করা নূরাণী ইন্টেরিয়র (Nurani Interior) বর্তমানে ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএস থেকে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতায় প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পে কাজ করেছে আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট, ডুপ্লেক্স বাড়ি, করপোরেট অফিস, কমার্শিয়াল স্পেস এবং ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের ইন্টেরিয়র ডিজাইন সেক্টরে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কোনো সর্বজনস্বীকৃত প্রাতিষ্ঠানিক র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা না থাকায় একটি ফার্মের প্রকৃত সক্ষমতা যাচাইয়ে তার কাজের পোর্টফোলিও, ডিজাইন দক্ষতা, টেকনিক্যাল সক্ষমতা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং ক্লায়েন্ট সন্তুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই জায়গায় নূরাণী ইন্টেরিয়রের অন্যতম শক্তি হলো তাদের সমন্বিত পেশাদার টিম। আর্কিটেক্ট, ইন্টেরিয়র ডিজাইনার, সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কারিগরি জনবলের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি একটি প্রকল্পের ডিজাইন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে শুধু নান্দনিক ডিজাইন নয়, বরং স্পেসের ব্যবহারিকতা, সঠিক পরিকল্পনা, নির্মাণযোগ্য টেকনিক্যাল ড্রয়িং, উপকরণ নির্বাচন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়। ফলে একটি ইন্টেরিয়র প্রকল্পকে কেবল সাজসজ্জার কাজ হিসেবে না দেখে সামগ্রিক স্পেস সলিউশন হিসেবে বিবেচনা করে নূরাণী ইন্টেরিয়র।
ডিজাইন থেকে বাস্তবায়ন
আবাসিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে আধুনিক ও কার্যকর স্পেস প্ল্যানিং, ফার্নিচার লে-আউট, লাইটিং, কিচেন, বেডরুম, লিভিং ও ডাইনিং স্পেসের সমন্বিত ডিজাইনের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী 2D, 3D ও ওয়ার্কিং ড্রয়িং তৈরিতে গুরুত্ব দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে করপোরেট ও বাণিজ্যিক প্রকল্পে ব্র্যান্ড ইমেজ, কর্মপরিবেশ, স্পেস অপ্টিমাইজেশন এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নিয়ে ডিজাইন করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানসম্মত ডিজাইন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও তাদের কাজের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নূরাণী ইন্টেরিয়র লিমিটেড-এর একজন মুখপাত্র বলেন, “বাংলাদেশের ইন্টেরিয়র খাতে নির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক র্যাঙ্কিং না থাকলেও আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্লায়েন্টের সন্তুষ্টি ও আস্থা। একটি প্রকল্পের সফলতা শুধু সুন্দর ডিজাইনে নয়; সেটি কতটা কার্যকর, আরামদায়ক, টেকসই এবং ক্লায়েন্টের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “দীর্ঘ পথচলায় আমরা প্রতিটি প্রকল্প থেকে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ডিজাইন, টেকনিক্যাল পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে পেশাদারিত্ব বজায় রাখাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।”
পরিবর্তনশীল বাজারে নতুন প্রত্যাশা
বর্তমানে বাংলাদেশের আবাসন ও বাণিজ্যিক খাতে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের প্রত্যাশাতেও এসেছে পরিবর্তন। শুধু দৃষ্টিনন্দন স্পেস নয়, বরং কার্যকর লে-আউট, পর্যাপ্ত স্টোরেজ, সঠিক লাইটিং, উন্নত উপকরণ, রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারযোগ্যতার বিষয়গুলোও এখন ডিজাইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের ডিজাইন ও টেকনিক্যাল সক্ষমতা আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে নূরাণী ইন্টেরিয়র। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো পেশাদার ডিজাইন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও মানসম্মত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ইন্টেরিয়র খাতে একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করা।
দেড় দশকের অভিজ্ঞতার পর প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থানকে শুধু সময়ের হিসাব দিয়ে নয়, বরং বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প, পেশাদার টিম এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্লায়েন্ট সম্পর্কের সমন্বিত ফল হিসেবে দেখছে নূরাণী ইন্টেরিয়র।
Leave a Reply