চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল পর্যটনকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবসায়ী উজ্জ্বল মিয়াজীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মামলার অন্যতম আসামি কবির খালাসীসহ প্রধান কয়েকজন আসামি এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের পরিবারে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। পরিবারের অভিযোগ, মামলার দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া, চার্জশিট দাখিল এবং কয়েকজন এজাহারভুক্ত আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।এ অবস্থায় মামলাটির পুনরায় পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-তে প্রেরণ করেছেন কোট, জানিয়েছেন নিহত উজ্জ্বল মিয়াজীর পরিবার। একই সঙ্গে মামলার অন্যতম আসামি কবির খালাসীকে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানিয়েছে মামলার বাদী গোলাম কিবরিয়া মিয়াজি জানা যায়, ২০২২ সালের ৫ মে রাতে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল পর্যটনকেন্দ্র এলাকায় মোবাইল ব্যবসায়ী উজ্জ্বল মিয়াজীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া মিয়াজী বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার এত বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া মিয়াজী বলেন, “আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এত বছরেও আমরা এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ বিচার ও সব আসামির গ্রেপ্তার দেখতে পাইনি। মামলার তদন্ত ও চার্জশিট নিয়ে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। আমরা চাই, মামলাটি সিআইডিতে প্রেরণ করেছেন নতুন করে পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক এবং পলাতক আসামি সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।”নিহতের পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা ছিল এবং কোনো আসামি তদন্তের আওতার বাইরে থেকে গেছে কি না—এসব বিষয় নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি।পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং অব্যাহতি পাওয়া এজাহারভুক্ত আসামিদের বিষয়েও প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।